
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় এক নরসুন্দরের বিরুদ্ধে এক নারীর প্রতি কুনজর দেওয়া এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযুক্ত নরসুন্দর ছকিমুদ্দীন মিয়া উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বুজরুক হাজীপুর নয়াপাড়া গ্রামের মৃত কাকরু মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় বিচিবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নরসুন্দরের পেশায় নিয়োজিত আছেন।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, তার বাড়ি এবং অভিযুক্তের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি যখনই বাড়ির গোসলখানায় গোসল করতে বা কাপড় ধুতে যান, তখন অভিযুক্ত ছকিমুদ্দীন দেয়ালের ওপর দিয়ে উঁকি দিয়ে তাকে দেখার চেষ্টা করেন। এমনকি একাধিকবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও ধারণের চেষ্টাও করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী নারী জানান, একদিন তিনি উঁকি দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি দেখতে পেলে অভিযুক্ত দ্রুত সেখান থেকে সরে যান। এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন এবং পূর্বে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। নিজেকে একজন অসহায় এতিম উল্লেখ করে তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এর আগেও ওই নারীর পক্ষ থেকে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। যেহেতু অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর বসতবাড়ি পাশাপাশি, তাই এ ধরনের সমস্যা বারবার দেখা দিচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ছকিমুদ্দীন মিয়া দাবি করেন, তিনি বাসায় ঘুঘু পাখি পালন করেন এবং মাঝে মাঝে পাখিগুলো দেয়ালের ওপর উঠে যায়। সেগুলো নামাতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো অনৈতিক কাজ তিনি করেননি।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার এএসআই আলমগীর হোসেন জানান, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের অভিযোগ সমাজে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে এবং নারীদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে বিঘ্ন ঘটায়। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সার্বিকভাবে, ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
মন্তব্য করুন