
ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬-এর প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে দিনাজপুরের গুরুত্বপূর্ণ হিলি স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন দেশি-বিদেশি উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল। সোমবার এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশের সীমান্ত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল মোঃ রাশেদ আমীন, এনডিসি, পিএসসি। তার সঙ্গে মোট ২৪ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয় পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের অন্যতম ব্যস্ত স্থলবন্দর হিলির কার্যক্রম, ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা সম্পর্কে সরেজমিন ধারণা নেওয়া।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, কাস্টমস ব্যবস্থাপনা, পণ্য খালাস প্রক্রিয়া এবং সীমান্ত বাণিজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন। বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান এবং বন্দর পরিচালনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন। তারা রাজস্ব আদায়, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের গতি এবং বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও তথ্য প্রদান করেন।
প্রতিনিধি দল বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন টার্মিনাল, গুদামঘর এবং কাস্টমস এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফিদা মাহমুদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এমডি মাফিজুল ইসলাম রাশেদ, কাস্টমস বিভাগের যুগ্ম কমিশনার পায়েল পাশা, উপ-কমিশনার সন্তোষ সরেন, হিলি স্থলবন্দরের ইনচার্জ মোঃ জামাল উদ্দিন জীবন, পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের উপদেষ্টা শেখ আলমগীর হোসেন, ম্যানেজার মামুনুর রশীদ এবং সহকারী ম্যানেজার (অপারেশন) অসিত কুমার স্যানালসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে স্থলবন্দরগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সীমান্ত বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। তারা হিলি স্থলবন্দরের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
মন্তব্য করুন