
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ২টি ট্র্যাক্টর ও ১টি এস্কেভেটর জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) রাত সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেন ড্যাং এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও সদর মডেল থানার একটি যৌথ টিম অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবি পুলিশের এসআই পলাশ চন্দ্র চৌধুরী এবং সদর মডেল থানার এসআই শাহাদাত হোসেন। রাতের অন্ধকারে কৃষিজমি কেটে মাটি উত্তোলন ও তা পরিবহনের সময় হাতেনাতে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের কল্যাণপুর গ্রামের মৃত শুকুরুদ্দীনের ছেলে রমজান আলী (৪০) এবং নয়াগোলা হাটপাড়া এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মোঃ হানিফ আলী (৩২)। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মাটি বোঝাই দুটি ট্র্যাক্টর ও একটি এস্কেভেটর জব্দ করা হয়, যা অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী চক্র কৃষিজমি কেটে পুকুর খননসহ বিভিন্ন স্থানে মাটি সরবরাহ করে আসছে। এসব মাটি ইটভাটা ও অন্যান্য নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে একদিকে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে গ্রামীণ পাকা সড়কগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা জানান।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা শুধু কৃষির ক্ষতিই করে না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও মারাত্মক হুমকি তৈরি করে।” তিনি আরও জানান, এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের এসআই সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযানে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষা করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন