
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় চিংড়ি মাছ চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মারধরের একপর্যায়ে তার একটি চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উপড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) গভীর রাতে উপজেলার আঙ্গরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আঙ্গরা গ্রামের মৎস্যচাষী লিয়াকত মুন্সির চিংড়ি ঘেরে দুই ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তারা জাল, সুতা ও ড্রাম নিয়ে ঘের থেকে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ সময় পানির অস্বাভাবিক শব্দে সন্দেহ হলে ঘের মালিক বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার ডাক শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
এ সময় আব্দুস শুকুর (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা সহযোগী দিনে মোল্লা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে উত্তেজিত জনতা আটক আব্দুস শুকুরকে বেধড়ক মারধর করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মারধরের একপর্যায়ে তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অপর চোখেও গুরুতর আঘাত লাগে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা চিংড়ি ঘেরে বারবার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র চিংড়ি ঘেরে চুরি চালিয়ে আসছে, যার ফলে মৎস্যচাষীরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা দ্রুত এই চুরি প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অন্যদিকে আহত আব্দুস শুকুরের পরিবারের পক্ষ থেকে গণপিটুনির ঘটনাকে অমানবিক ও বেআইনি বলে দাবি করা হয়েছে। তার পুত্রবধূ বলেন, “যদি তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিল। এভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এ বিষয়ে মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রমজানুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। আহত ব্যক্তি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সচেতন মহল মনে করছেন, চুরি প্রতিরোধ জরুরি হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন