
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় মৎস্য ঘের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, অবৈধভাবে জমি দখল করে ঘের ব্যবসা পরিচালনা ও প্রকৃত জমির মালিকদের হয়রানির প্রতিবাদে স্থানীয়রা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। এ ঘটনায় একটি বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বহরবুনিয়া গ্রামের হাওলাদার পাড়া এলাকায় প্রায় ১৭০ বিঘা জমির একটি মৎস্য ঘেরের পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জমির মালিকরা তাদের জমিতে লাল পতাকা পুঁতে দখল ও অবস্থানের ঘোষণা দেন। ফলে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জমির মালিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের জমি দখল করে ঘের পরিচালনা করে আসছেন। তারা দাবি করেন, অতীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু নেতার সহযোগিতায় এই জমি দখল করা হয়েছিল এবং বর্তমানেও একই ধারা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, জুলাই মাসের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও বহিরাগতদের দখলদারিত্ব বন্ধ হয়নি।
বক্তারা বলেন, “আমরা প্রকৃত জমির মালিক হয়েও নিজেদের জমিতে যেতে পারতাম না। এখন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের জমি পুনরুদ্ধার করেছি। আমরা চাই নিজেদের জমিতে নিজেরাই চাষাবাদ ও মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতে।” তারা বহিরাগতদের প্রভাবমুক্ত হয়ে জমির অধিকার ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জমির মালিক সাইফুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান তালুকদার, রাজিব হাওলাদার, মো. মমিনুল ইসলাম, নাছিমা খাতুন, মরিয়ম বেগম ও মেহেরুন নেছাসহ অনেকে। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে উপজেলা বিএনপির নেতা এফ. এম. শামীম আহসানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এফ. এম. শামীম আহসান বলেন, “২০০৬ সালে জমির মালিকরা স্বেচ্ছায় ঘেরটি আমার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কিছু ব্যক্তি সেটি দখল করে নেয়। বর্তমানে যারা মানববন্ধন করছেন, তাদের ওই জমিতে কোনো মালিকানা নেই।”
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত ঘেরকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা অবনতির কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি বলে তারা মনে করেন।
মন্তব্য করুন