
কুলিয়ারচর-এ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (০৬ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে কুলিয়ারচর বাজার আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান।
উদ্বোধনের অংশ হিসেবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিকর খাবার—দুধ, কলা, পাউরুটি ও ডিম—বিতরণ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশের ১৫০টি উপজেলায় বিনামূল্যে সপ্তাহে ছয় দিন টিফিন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই টিফিনে বিভিন্ন মৌসুমী ফল, পাউরুটি, পুষ্টিকর দুধ, ডিম ও বিস্কুট অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিদিন একঘেয়ে খাবারের পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য তালিকা রাখা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা আগ্রহের সঙ্গে টিফিন গ্রহণ করে। একইসঙ্গে তিনি খাদ্যের মান বজায় রাখা এবং যথাযথ নিয়মে কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর সংশ্লিষ্টদের গুরুত্বারোপ করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাসুদুর রহমান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনিসুর রহমান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহাদাত হোসেন শাহ আলম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুকুল ইসলাম ফারুক, যুবদলের আহ্বায়ক আজহার উদ্দিন লিটন, প্রচার সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম মুছা এবং প্রাথমিক শিক্ষা সমিতির সভাপতি মো. মাহফুজুল হকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। এছাড়াও কর্মসূচির পরিবেশক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন মান্নান ও সাইদুর রহমান।
সাপ্তাহিক ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয়ের কার্যদিবসে নির্ধারিত খাদ্য তালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের খাবার প্রদান করা হবে। রোববার ও বুধবার বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম, সোমবার বনরুটি ও ইউএইচটি দুধ, মঙ্গলবার ফর্টিফাইড বিস্কুট ও মৌসুমী ফল বা কলা, এবং বৃহস্পতিবার বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম সরবরাহ করা হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য করুন