
খাগড়াছড়ি-এর পাহাড়ি জনপদের সবচেয়ে বড় উৎসব বৈসাবি এবারও বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) শহরে অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রা রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ, যা পার্বত্য অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরেছে।
সকাল ৯টায় জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হলে গিয়ে শেষ হয়। নতুন বছরকে বরণ ও পুরোনোকে বিদায় জানানোর এ আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে অংশগ্রহণকারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, বর্ণিল অলংকার এবং বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গী। শোভাযাত্রা যেন পার্বত্য অঞ্চলের জীবন্ত সংস্কৃতিকে শহরের রাস্তায় ফুটিয়ে তোলে।
শোভাযাত্রার শেষে টাউন হলে অনুষ্ঠিত হয় মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘মৈত্রী পানিবর্ষণ’ অনুষ্ঠান, যা উৎসবের আনন্দকে আরও গভীর করে। অতিথিরা অনুষ্ঠানকালে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সম্প্রদায়িক ঐক্যের বার্তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। তিনি বলেন, “এ ধরনের উৎসব পার্বত্য মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।” জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন চলমান থাকবে এবং পার্বত্য অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় থাকবে।
উৎসবের বর্ণিলতা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনি এটি পাহাড়ি মানুষের ঐক্য, সহমর্মিতা এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বৈসাবি শুধু একটি উৎসব নয়; এটি পার্বত্য জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধন প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
বৈসাবি উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা চলবে আরও কয়েক দিন। ৯ এপ্রিল ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ১২ এপ্রিল চাকমাদের ফুল বিজু এবং ১৪ এপ্রিল মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন হবে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হবে।
এভাবে খাগড়াছড়িতে বৈসাবি উৎসব প্রমাণ করে—বৈচিত্র্যের মধ্যেই পাহাড়ের প্রকৃত সৌন্দর্য, আর সম্প্রীতিই এখানকার সবচেয়ে বড় শক্তি।
মন্তব্য করুন