
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এ মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি (হেইলস্টর্ম) জেলার গ্রামাঞ্চলসহ শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। টানা প্রায় ৪৫ মিনিট চলা এই প্রবল শিলাবৃষ্টিতে প্রধানত আমের বাগান ও অন্যান্য কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ‘আমের রাজধানী’ হিসেবে খ্যাতি রয়েছে। শিলাবৃষ্টির কারণে গুটি ও কচি আম ঝরে পড়েছে, অনেক ফল ফেটে গেছে এবং ধানসহ অন্যান্য মৌসুমী ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, ঘরবাড়ি ও টিনের চালও শিলার তীব্র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিলার আকার ও তীব্রতা এতোটাই বেশি ছিল যে চারপাশ যেন বরফের চাদরে ঢাকা পড়ে।
কৃষকরা শিলাবৃষ্টির পর দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের জন্য এই ক্ষতি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং পরিবারের জীবনযাপন ও আগামী মৌসুমের প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা চাচ্ছেন এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়রা জানান, শিলাবৃষ্টি হঠাৎ ও আকস্মিকভাবে আঘাত হানে। এক মুহূর্তে জমি, ফসল, ঘরবাড়ি—সবকিছু যেন ধ্বংসের পথে চলে যায়। কৃষকরা শিলাবৃষ্টির কারণে তাদের প্রাপ্ত সম্ভাব্য আয়ের বড় অংশ হারানোর ভয়ে উদ্বিগ্ন। ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, এখন তাদের চিন্তা শুধু এই ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে কিভাবে ফসল রক্ষা ও পুনরায় চাষাবাদ শুরু করা যাবে।
উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে দ্রুত মাঠপর্যায়ের জরিপ শুরু করা হয়েছে। প্রশাসন কৃষকদের সহায়তা ও প্রাথমিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য প্রস্ত্ততি নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তন কৃষি নির্ভর এলাকার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
এই শিলাবৃষ্টির ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি অর্থনীতি, বিশেষ করে আমের বাগানগুলোতে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় কৃষক ও প্রশাসন এখন জরুরি সহায়তা, ফসল উদ্ধার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার বিষয়ে কাজ করছে।
মন্তব্য করুন