
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, ফসল ও ফলদ গাছের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুরের পরপরই শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার ১নং এলুয়াড়ী ইউনিয়নের অন্তত ৮ থেকে ৯টি গ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ করে শুরু হওয়া তীব্র ঝড়ের সঙ্গে বড় আকারের শিলা পড়তে থাকে, যা কয়েক মিনিটের মধ্যেই জনজীবন বিপর্যস্ত করে তোলে। শিলার আঘাতে এলাকার অধিকাংশ বাড়ির টিনের চাল ফুটো হয়ে যায় এবং অনেক ঘর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অনেক স্থানে টিন এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তা সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করা ছাড়া বিকল্প নেই।
এছাড়াও কৃষিখাতে এই দুর্যোগের প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। বিস্তীর্ণ জমির ধান, ভুট্টা, আম ও লিচুর বাগান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠের পর মাঠ ধানের গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, অনেক ক্ষেতেই কোনো গাছ আর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নেই। ভুট্টা ক্ষেতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ফলে কৃষকদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে গেছে।
গ্রামবাসীরা জানান, শিলাবৃষ্টির তীব্রতা এতটাই ছিল যে অনেক জায়গায় শিলার স্তূপ জমে ছোট ছোট ঢিবির মতো হয়ে যায়। গাছের পাতা ছিঁড়ে পড়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে, যা দেখে অনেকেই হতবাক হয়ে যান। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এমন ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি তারা জীবনে কখনো দেখেননি। এমনকি ৮০ থেকে ৯০ বছর বয়সী প্রবীণরাও জানান, তাদের জীবদ্দশায় এত বড় আকারের শিলাবৃষ্টি এর আগে কখনো হয়নি।
এ ঘটনায় হাজারো কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন—কীভাবে তারা ঘর মেরামত করবেন এবং নতুন করে চাষাবাদ শুরু করবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
খবর পেয়ে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ নবীউল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
এদিকে স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা ক্ষতির ধাক্কা কাটিয়ে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
মন্তব্য করুন