
নোয়াখালীতে আকস্মিক ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার তাণ্ডবে রেলপথে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় ঢাকা-নোয়াখালী রুটে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে শত শত যাত্রীকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) গভীর রাতে জেলা শহর মাইজদীসহ আশপাশের এলাকায় হঠাৎ করে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, জেলার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে রেললাইনের ওপর এসে পড়ে। ফলে বুধবার সকাল থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়নি এবং পুরো রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ‘উপকূল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি পথে একাধিক স্থানে রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে থাকতে দেখে বাধাগ্রস্ত হয়। ট্রেনটি ধীরগতিতে অগ্রসর হতে থাকে এবং কয়েকটি স্থানে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় গাছ সরিয়ে কোনোভাবে এগিয়ে যায়। পরে ট্রেনটি মাইজদী কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালেও সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
পরবর্তীতে আংশিকভাবে রেললাইন পরিষ্কার করা হলে ট্রেনটি চৌমুহনী অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। তবে পুরো রুট এখনও ঝুঁকিমুক্ত না হওয়ায় ট্রেন চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
ট্রেনটির চালক রফিকুল ইসলাম জানান, পথের বিভিন্ন স্থানে এখনও গাছ পড়ে রয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে অপসারণ না করা পর্যন্ত রেললাইন নিরাপদ বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “সব গাছ সরিয়ে রেললাইন নিরাপদ করতে কিছুটা সময় লাগবে। তাই নির্ধারিত সময়ে ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নাও হতে পারে।”
এদিকে দীর্ঘ সময় ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে না পেরে অনেক যাত্রী বিকল্প যানবাহন ব্যবহার করে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন। এতে তাদের অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
নোয়াখালী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আসাদুজ্জামান বলেন, “ঝড়ের কারণে বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে রেললাইনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা সকাল থেকেই গাছ অপসারণে কাজ করছেন। দ্রুত লাইন পরিষ্কার করা গেলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই আকস্মিক ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়া ছাড়াও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাও ঘটেছে, যা জনজীবনে আরও দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো রেললাইন নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন