
ঝালকাঠি শহরের প্রবেশদ্বারকে আরও দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করে তুলতে নির্মিত ‘ঝালকাঠি চত্বর’ নামে একটি নান্দনিক ভাস্কর্যের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ঝালকাঠি পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন ফিতা কেটে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নির্মিত এই চত্বরটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
জানা যায়, শহরের প্রবেশপথকে পরিচিতি ও সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পৌর কর্তৃপক্ষ এই ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ‘ঝালকাঠি চত্বর’ নামের এ স্থাপনাটিতে জেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিককে তুলে ধরা হয়েছে। এতে শীতলপাটি, পেয়ারার ভাসমান হাট, জেলেদের ইলিশ শিকার এবং ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ির দৃশ্য শৈল্পিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার প্রখ্যাত কবি কামিনী রায় ও জীবনানন্দ দাশের স্মৃতিবিজড়িত কবিতার শিরোনামও স্থান পেয়েছে, যা ভাস্কর্যটিকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।
মনোমুগ্ধকর এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন ঝালকাঠির স্থানীয় শিল্পী আতিকুর রহমান। প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে ঝালকাঠি পৌরসভা। চত্বরটির চারপাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ রোপণ করা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের জন্য বসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যা এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদনস্থলে রূপ দিয়েছে।
উদ্বোধনের প্রথম দিনেই অনেক দর্শনার্থী চত্বরে ঘুরতে এসে পৌরসভার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি জেলার পরিচিতি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পৌর প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন বলেন, “ঝালকাঠির প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলার মানুষ যাতায়াত করে। এতদিন এখানে ঝালকাঠির পরিচয় বহন করে এমন কোনো প্রতীক ছিল না। এই চত্বর নির্মাণের মাধ্যমে আমরা সেই শূন্যতা পূরণ করেছি। এটি শুধু একটি ভাস্কর্য নয়, বরং একটি পরিচয়চিহ্ন এবং বিনোদন স্পট হিসেবেও কাজ করবে।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে শহরের অবকাঠামো ও নান্দনিকতা আরও উন্নত হয়।
সার্বিকভাবে, ‘ঝালকাঠি চত্বর’ শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং জেলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এটি স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের জন্য যেমন স্বস্তির জায়গা তৈরি করেছে, তেমনি ঝালকাঠিকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন