
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে একটি মোবাইল ফোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আত্মসাতের টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তা আত্মীয়ের প্রভাব দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
সোমবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পাঁচবিবি উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী সয়ন চৌধুরী।
তিনি জানান, তিনি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভার পশ্চিম বালিঘাটা মহল্লার বাসিন্দা এবং তিনমাথা সুপার মার্কেটে অবস্থিত চাঁদনী টেলিকম নামের দুটি মোবাইল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের মে মাসে জয়পুরহাট সদর উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রেজুয়ান হোসেন রাব্বী-কে দোকানের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের কয়েক মাস পর থেকেই দোকানের হিসাব-নিকাশে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে অভ্যন্তরীণ অডিট পরিচালনা করলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের তথ্য সামনে আসে।
অডিট প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সয়ন চৌধুরী জানান, মোবাইল সেট বিক্রির হিসাব থেকে ২৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬৮ টাকা, মোবাইল এক্সেসরিজ বিক্রির হিসাবে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮৮৯ টাকা এবং লভ্যাংশ ও নগদ অর্থ মিলিয়ে মোট ৫৮ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের আগস্টে হিসাবের গরমিল ধরা পড়ার পর অভিযুক্ত কর্মচারী দোকান ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে চলতি বছরের ১০ মার্চ স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় তাকে খুঁজে বের করা হলে উপস্থিত লোকজনের সামনে তিনি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন সয়ন। তবে টাকা ফেরতের কথা বলার পর থেকেই হুমকি-ধমকি শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সয়ন চৌধুরী অভিযোগ করেন, অভিযুক্তের এক জ্যাঠাতো ভাই পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হওয়ায় সেই প্রভাব খাটিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
ভুক্তভোগীর দাবি, এ ঘটনায় তিনি পাঁচবিবি থানা-য় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে রেজুয়ান হোসেন রাব্বী বলেন, দোকান মালিক তার কাছে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা পাবেন। লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, দোকানে আর কাজ করতে না চাওয়ায় তাকে জোর করে আটকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এজন্যই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আত্মীয়ের প্রভাব খাটানোর অভিযোগও অস্বীকার করেন রাব্বী। তিনি বলেন, আত্মীয়দের সঙ্গে তার জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। তাকে হয়রানি করতেই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজ মো. রায়হান বলেন, বিষয়টি তাদের জানা আছে। তবে এটি সরাসরি ফৌজদারি মামলা হিসেবে থানায় গ্রহণযোগ্য নয়। এজন্য ভুক্তভোগীকে আদালতের মাধ্যমে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের দাবি, বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত না হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন