
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকটক ভিডিও তৈরি এবং জনপ্রিয় অনলাইন গেম ফ্রি ফায়ারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার লাহুড়িয়া বাজার এলাকায় ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার এগারোনলী ও ৮৫পাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, প্রায় ছয় মাস আগে টিকটক ভিডিও তৈরি নিয়ে দুই গ্রামের কিছু তরুণের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। সেই বিরোধ ধীরে ধীরে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে বিরূপ সম্পর্ক তৈরি করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) লাহুড়িয়া হাফেজ আব্দুল করিম একাডেমিতে আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় বাকবিতণ্ডা হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশি হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ চলছে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংস ঘটনা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তারা তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেম ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিকভাবে নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন