
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ গত ৮ মার্চ (বুধবার) দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা হাসপাতালের নতুন ভবনে ঢুকে পানির মটারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপ খুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সকালে দায়িত্ব পালন করতে এসে কর্মচারীরা দেখতে পান নতুন ভবনের পানির মটারের সঙ্গে সংযুক্ত পাইপগুলো ভেঙে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে করে হাসপাতালের পানির সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। শুধু একবারই নয়, এর আগেও একই ভবনের পানির পাইপ চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বারবার এমন ঘটনার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের কর্মরতরা।
হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা হওয়া সত্ত্বেও এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট জোরদার নয়। রাতে পাহারাদার থাকলেও কীভাবে বারবার চুরি হচ্ছে, তা নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশিকুল আরেফিন বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার বা চোর শনাক্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এভাবে চলতে থাকলে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “পাহারাদার থাকার পরও কীভাবে চুরি সংঘটিত হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বারবার চুরির ঘটনায় হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন