
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার দুর্গম যমুনা চরাঞ্চলে ফারদিন শেখ (১৩) নামে এক কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পশ্চিম মুন্নিয়াচর এলাকায়।
নিহত ফারদিন ওই এলাকার শাহজাহানের ছেলে। তার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণের ফল—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভিন্নমত, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর দিঘলকান্দি গ্রামে কবুতর চুরির অভিযোগে ফারদিন এবং একই এলাকার ইয়ামিন নামে আরেক কিশোরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের শাসন করে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। বাড়িতে ফিরে কিছু সময় পর ফারদিন গোয়ালঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে স্থানীয়দের একটি অংশের ধারণা।
মুন্নিয়াচর এলাকার সাবেক যুবদল নেতা আফসার উদ্দিন আকন্দ জানান, ফাঁদ পেতে কবুতর ধরার বিষয়টি কেন্দ্র করে ফারদিনকে শাসন করা হয়েছিল। এতে অভিমান করে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে নিহতের পরিবারের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। ফারদিনের মা ফরিদা বেগম জানান, তার ছেলের দীর্ঘদিন ধরে পেটের ব্যথা ছিল। ঘটনার দিন ভোরে তীব্র ব্যথা সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যা করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য এবং পরিবারের দাবির মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি থাকায় পুরো ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে। সুধী মহল বলছে, একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি।
এ বিষয়ে ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম গাজী জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এলাকাবাসীর দাবি, কিশোরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ও কার্যকর তদন্ত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের রহস্যজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
মন্তব্য করুন