
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাসপাতালের ভেতর এবং আশপাশের এলাকায় সক্রিয় দালাল চক্র সহজ-সরল গ্রামাঞ্চলের রোগীদের বিভ্রান্ত করে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ রোগীরা প্রতারিত হচ্ছেন এবং তাদের ভোগান্তি ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটক থেকে জরুরি বিভাগ পর্যন্ত দালালদের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা রোগীদের কাছে ভুল তথ্য প্রদান করে চিকিৎসার নামে প্রলুব্ধ করে বাইরে নিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের স্বজনদেরও বিভ্রান্ত করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দালালদের প্ররোচনায় পড়ে তারা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে যে হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে এই দালাল চক্রের যোগসাজশ রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। হাসপাতালের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, “দালালদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এমন অনিয়ম চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনগণ আশা করছে, হাসপাতালের স্বচ্ছতা এবং রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসন অবিলম্বে নজরদারি বাড়াবে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানিয়েছেন, দালাল চক্রের কারণে মানুষকে বেসরকারি ক্লিনিকের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং রোগীর স্বাস্থ্যকেও ঝুঁকিতে ফেলে। তাই প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা মনে করছেন, দালাল সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। তারা দ্রুত প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি এবং দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে, গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ রোগীর আস্থা পুনঃস্থাপন করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন