
সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা এক গার্মেন্টস শ্রমিক আজ নিজের বসতভিটা ও পৈত্রিক জমি হারিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। নাটোরের গুরুদাসপুর ও সদর উপজেলায় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের দখল, হুমকি ও মামলার চাপে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন মো. মাসুদ রানা। ডিবি পুলিশের তদন্তে জমির প্রকৃত মালিকানা প্রমাণিত হলেও দখলদারিত্ব থামেনি। উল্টো দখল করা জমির ফসল বিক্রির টাকায় মামলা লড়ার দম্ভ দেখাচ্ছে প্রতিপক্ষ।
ভুক্তভোগী মাসুদ রানা গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা শিকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে তিনি বর্তমানে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন গার্মেন্টসে কাজ করলেও দুর্ঘটনার পর থেকে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার পৈত্রিক জমি মা তাকে দান করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী সোহরাব মন্ডল জোরপূর্বক সেই জমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছেন।
ডিবি পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে জমিটির প্রকৃত মালিক হিসেবে মাসুদ রানার নাম উঠে আসে। তদন্ত প্রতিবেদনে সোহরাব মন্ডলকে ‘পেশাদার দাঙ্গাবাজ ও লাঠিয়াল বাহিনীর নেতৃত্বদানকারী’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। তবে এতকিছুর পরও দখলদার সোহরাব মন্ডল ও তার সহযোগীরা জমি ছাড়েনি।
মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, আগামী ২০ জানুয়ারি মামলার শুনানির দিন ধার্য থাকলেও প্রতিপক্ষের ভয়ে তিনি ও সাক্ষীরা আদালতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। সোহরাব মন্ডল ও তার লোকজন প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলছে, “মাসুদের জমিতে চাষ করা ফসল বিক্রির টাকা দিয়েই ওর বিরুদ্ধে মামলা লড়বো।” স্থানীয় মশিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারী একাধিকবার নোটিশ দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর মৌজায় মাসুদ রানা যে বসতবাড়িটি কিনেছিলেন, সেখানেও প্রতারণার শিকার হন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, দিয়ারসাতুরিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম ওই বাড়িটি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণের তথ্য গোপন করে মাসুদের কাছে রেজিস্ট্রি করে দেন। পরে ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত জটিলতায় মাসুদ রানা নিজের কেনা বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হন। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ রানা নিজে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী (আইডি নং–১৯৮২৬৭৬১১২১৫১-০১)। তার কন্যা সাদিয়া পারভিন মুক্তা শারীরিক প্রতিবন্ধিতার পাশাপাশি হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত। ৫–৬ বছরের ছেলে মো. আনাস ইকবাল আসিরও শারীরিক প্রতিবন্ধী। সম্প্রতি ছোট বোনের স্বামীর অকাল মৃত্যুতে সেই পরিবারের দায়িত্বও এসে পড়েছে মাসুদের ওপর।
চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দাঁড়িয়ে মাসুদ রানা প্রশ্ন তুলেছেন,
“সরকার যেখানে ভূমিহীনদের ঘর দিচ্ছে, সেখানে তিন প্রতিবন্ধী সদস্যের পরিবার হয়েও আমরা কেন নিজ বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হব?”
অর্থাভাবে মামলা চালাতে অক্ষম এই পঙ্গু শ্রমিক সমাজসেবা অধিদপ্তর, সরকারি লিগ্যাল এইড এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলও দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে একজন অসহায় প্রতিবন্ধী নাগরিক ন্যূনতম নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পান।
মন্তব্য করুন