
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় বালু মহলকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আমিন সরদার ওরফে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করেছে কালিয়া থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে নড়াইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আমিন সরদার কালিয়া উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আঞ্জু সরদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বালু মহল এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কালিয়া উপজেলার ভোমবাগ বালু মহলের ইজারাদার মফিজ সরদারের পক্ষে মো. জিয়াউর রহমান সিকদার বালু মহলের অর্থ আদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে আমিন সরদারসহ কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি জিয়াউর রহমান সিকদারের বাড়িতে প্রবেশ করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভয়ের কারণে তিনি এক লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে বাকি চার লাখ টাকা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না করলে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এরপর ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে অভিযুক্তরা বন্দুক, পিস্তল, হকিস্টিক ও লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে বালু মহলের টোল ঘরে প্রবেশ করে পুনরায় চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা টোল ঘরে থাকা ক্যাশবাক্স ভেঙে এক লাখ ৩৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় দায়িত্বরত কর্মচারীদের মারধর করে আহত করা হয় এবং একটি ভিভো ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. জিয়াউর রহমান সিকদার বাদী হয়ে কালিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি কালিয়া থানার মামলা নম্বর–৬, তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ৩২৩, ৩২৬, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৮০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শুকুর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা গ্রহণ করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি আমিন সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বালু মহল এলাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন