
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে বিজয়ী প্রার্থীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনার পরিবর্তে সৌজন্য ও সহযোগিতার বার্তা দেওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
নিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নাসিরনগর কলেজ মোড়স্থ চেয়ারম্যান কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ী এম এ হান্নানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল ইসলাম। এ সময় তারা পরস্পরকে মিষ্টিমুখ করান এবং সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় অংশ নেন।
সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচন শেষ। এখন সময় নাসিরনগরের মানুষের উন্নয়ন, শান্তি ও জনকল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার। দলীয় বিভাজন ভুলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জয়-পরাজয় থাকবেই; তবে জনগণের স্বার্থই সবার আগে হওয়া উচিত।
বিজয়ী প্রার্থী এম এ হান্নানও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, নাসিরনগরের উন্নয়নই তার অগ্রাধিকার। নির্বাচনে যারা অংশ নিয়েছেন, তারা সবাই এলাকার কল্যাণ চান—এমন সহযোগিতামূলক মনোভাব ভবিষ্যতে ইতিবাচক রাজনীতির পথ সুগম করবে।
এর আগে এক ভিডিও বার্তায় নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট এ কে এম কামরুজ্জামান মামুনও এম এ হান্নানকে অভিনন্দন জানান। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিজয়ী প্রার্থীর সফলতা কামনা করেন।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের এম এ হান্নান পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৭৭৩ ভোট। ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান মামুন পেয়েছেন ৩৫ হাজার ১২১ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ২৩ হাজার ৮৮৮ ভোট।
স্থানীয় নেতাকর্মী, সুশীল সমাজ ও সচেতন মহল এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে।
নাসিরনগরের সাধারণ মানুষও আশা করছেন, নির্বাচন-পরবর্তী এই ইতিবাচক বার্তা ভবিষ্যতে এলাকায় সহনশীল ও উন্নয়নমুখী রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
মন্তব্য করুন