
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে ওয়াসিম আকরাম (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে খাগড়াছড়ি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চন্দন কান্তি নাথ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ওয়াসিম আকরাম উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের কালাপানি এলাকার মৃত শওকত পিসির ছেলে। আদালতের রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আইনানুগ অন্যান্য দণ্ডও প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৪ মে রাতে পারিবারিক কলহের জেরে ওয়াসিম আকরাম তার স্ত্রী সাফিয়া আক্তার (২৫)-কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে গলায় ফাঁস দিয়ে ঘটনাস্থল সাজানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পরে তদন্তে হত্যার সত্যতা উদ্ঘাটিত হয়।
এ ঘটনায় নিহত সাফিয়া আক্তারের বাবা মো. আব্দুল হাকিম বাদী হয়ে মাটিরাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দীর্ঘদিন তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়। প্রায় নয় বছর পর সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।
বিচারকালে মামলার মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।
রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট করিমউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, তারা এ রায়ে সন্তুষ্ট নন। আসামির সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রায় ঘোষণায় নিহতের পরিবার কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, বিচার পেতে দীর্ঘ সময় লাগলেও শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
সচেতন মহলের মতে, এমন সংবেদনশীল মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা জরুরি। এতে একদিকে ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে, অন্যদিকে সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই রায়কে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই মনে করছেন, আইনের কঠোর প্রয়োগ অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন