
নাটোরের নলডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিরের (৩৫) জানাজা নামাজে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। শোক ও শ্রদ্ধায় এক আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় নলডাঙ্গা উপজেলার ছাতারভাগ (ডাকাতিয়া ভিটা) এলাকায় তাঁর নিজ গ্রামে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা ভুলে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এতে নলডাঙ্গা ও আশপাশের উপজেলার মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জানাজার আগে মনিরুজ্জামান মনিরের জীবনের নানা দিক তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয় এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালিত হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-২ (নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর প্রতিনিধি হিসেবে জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম। এছাড়া নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম বুলবুল, নলডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা আব্বাস আলী নান্নু, সাবেক নলডাঙ্গা পৌর প্রশাসক এম এ হাফিজ, নলডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ জানাজায় অংশ নেন।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী অধ্যাপক ইউনুস আলী, নাটোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন, জামায়াত মনোনীত নলডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ও নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডক্টর জিয়াউল হক জিয়া, জামায়াত নেতা জিহাদুল ইসলাম জিহাদ এবং মাওলানা আবু নওশাদ নোমানীসহ স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মনিরুজ্জামান মনির নলডাঙ্গা পৌরসভায় মেয়র থাকাকালীন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
এদিকে জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের একসঙ্গে উপস্থিতি এলাকায় মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, মৃত্যুর কাছে সবাই সমান—এই উপলব্ধি থেকেই তাঁরা শেষ বিদায়ে অংশ নিয়েছেন।
মন্তব্য করুন