
রাজশাহী মহানগরীর কুমারপাড়া এলাকায় অবস্থিত মহানগর আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত ও ভাঙা দলীয় কার্যালয়ের জায়গা ঘিরে নতুন করে মালিকানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ওই স্থানে ‘অর্পিত সম্পত্তি’ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানিয়েছে জেলা প্রশাসন, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জায়গাটিতে এ সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি ‘ক’ তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি (ভেস্টেড অ্যান্ড নন-রেসিডেন্ট প্রপার্টি) এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে এ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও কালেক্টর। এতে সম্পত্তিটির বিস্তারিত তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ওই জায়গাটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও ব্যবহারবিহীন অবস্থায় পড়ে ছিল, ফলে এলাকাবাসীর মধ্যেও জায়গাটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল।
তবে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন দাবিকৃত মালিকপক্ষ। এর আগে একই জায়গায় মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড টানিয়েছিলেন ডা. দুর্জয় মৈত্র। তার মা অ্যাডভোকেট পূর্ণিমা ভট্টাচার্যের দাবি, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে জমিটির বৈধ মালিক তার ছেলে ডা. দুর্জয় মৈত্র, যিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন।
অ্যাডভোকেট পূর্ণিমা ভট্টাচার্য বলেন, “আদালতের রায় আমাদের পক্ষে রয়েছে। সে অবস্থায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘অর্পিত সম্পত্তি’ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানানো আদালতের আদেশের প্রতি অবমাননার শামিল।” তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে তারা পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হবেন এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড টানানোর মাধ্যমে জায়গাটির ওপর সরকারের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আইন অনুযায়ী যেসব সম্পত্তি অর্পিত বা ভেস্টেড হিসেবে চিহ্নিত, সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সরকারের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই এ বিরোধ নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে কুমারপাড়ার এই পরিত্যক্ত জায়গাটি ঘিরে প্রশাসন ও দাবিকৃত মালিকপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হলেও বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই চূড়ান্ত সমাধানের দিকে এগোবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন