
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আশ্রাফবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এ আয়োজন ঘিরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় ছিলেন মোহাম্মদ রোমন হায়দার এবং বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আলামিন স্যার। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সহকারী শিক্ষক সোহাগ আহম্মেদ, সিনিয়র শিক্ষক অলিউল্লাহসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দুধ মিয়া মাস্টার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম, স্টার মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান সোহেল আফসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এনামুল হক বাবলু, গণসংহতি আন্দোলন উত্তর মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার এবং সাংবাদিক এম এ আউয়াল। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। একটি শক্তিশালী ও উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশ অত্যন্ত জরুরি। সেই ক্ষেত্রে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, “নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ, নৈতিকতা, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তোলে। একটি সুস্থ, মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ বিনির্মাণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করা সময়ের দাবি।”
বিশেষ অতিথিরাও তাঁদের বক্তব্যে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের একঘেয়েমি দূর করে, মানসিক চাপ কমায় এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে। গ্রামীণ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, বল নিক্ষেপসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
মন্তব্য করুন