
সরকার পরিবর্তন হলেও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ হয়নি—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এবার পর্যটননগরী কক্সবাজার-এ চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যতিক্রমী ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ। পর্যটন জোনের প্রায় দুই শতাধিক আবাসিক হোটেল, কটেজ ও রিসোর্টে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়ে ব্যবসায়ীদের সরাসরি সহযোগিতা চেয়েছে সংস্থাটি।
চিঠিতে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে টুরিস্ট পুলিশকে অবহিত করতে হবে। তথ্যদাতার নাম-পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও আস্থার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অতিরিক্ত ডিআইজি ও রিজিয়ন প্রধান আপেল মাহমুদ। তিনি তার ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল নম্বরও উল্লেখ করেছেন, যাতে ভুক্তভোগীরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। তার ভাষায়, “টুরিস্ট জোনে চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। যে দলের বা মতেরই হোক, অপরাধ করলে কঠোর শাস্তি পেতে হবে—অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের একটি অঘোষিত সমস্যার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন সরাসরি অবস্থান ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক বার্তা দেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চিঠিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর কক্সবাজার জেলা কমিটির সিনিয়র নেতা রাসেদ মুহাম্মদ আলী ফেসবুকে লিখেছেন, রমজান মাসে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে টুরিস্ট পুলিশের কঠোর হুঁশিয়ারি ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।
হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকদের দাবি, পর্যটন এলাকায় টুরিস্ট পুলিশের ভূমিকা বরাবরই প্রশংসনীয়। তারা পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, হোটেল-মোটেল জোনে চাঁদাবাজি নতুন কোনো বিষয় নয়। অতীতে দলীয় মিছিল-মিটিংকে কেন্দ্র করে বাড়তি অর্থ দিতে হতো। যদিও পুরনো চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমেছে, ৫ আগস্টের পর কিছু নতুন মুখ সক্রিয় হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানের কারণে তারাও গা-ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও কক্সবাজার সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল পৃথক ঘোষণায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়ে বলেছেন, তার নির্বাচনী এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে সোপর্দ করতে হবে; সাহসিকতার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।
পর্যটননির্ভর অর্থনীতির জন্য পরিচিত কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টুরিস্ট পুলিশের এই উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়াবে এবং পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে চাঁদাবাজিমুক্ত নিরাপদ পর্যটন পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
মন্তব্য করুন