
খাগড়াছড়িতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী নাগরিক সংলাপ ‘জনগণের মুখোমুখি’। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণে সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক, খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা সরাসরি নাগরিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
মোট ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন উপস্থিত ছিলেন। তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, বিদ্যুতায়ন, পর্যটন বিকাশ, নারী ক্ষমতায়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নাগরিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। একই সঙ্গে নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তাঁদের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
প্রার্থীরা অনুষ্ঠানে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। এছাড়া খাগড়াছড়িকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও পর্যটনবান্ধব জনপদে রূপান্তর করার অঙ্গীকারও জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—
* বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভুইঁয়া
* বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী
* জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা
* বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)-এর উশোপ্রু মারমা
* ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. কাউছার (হাতপাখা)
* ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নূর ইসলাম
* বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোস্তফা
* গণঅধিকার পরিষদের দীনময় রোয়াজা
* স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা ও সমীরণ দেওয়ান
একজন প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরার অনুপস্থিতি কিছু কৌতূহল সৃষ্টি করলেও, বাকি ১০ প্রার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তোলে।
সুজন খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দীন ইউসুফ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন সনাক ঢাকার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ সরকার। এতে সুজনের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক ভোটার উপস্থিত ছিলেন।
সুজন নেতৃবৃন্দ জানান, এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের সচেতন করা, প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি জনসম্মুখে তুলে ধরা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
মন্তব্য করুন