
খাগড়াছড়ি-২৯৮ সংসদীয় আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. নুর ইসলাম উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও মানবিক রাজনীতির অঙ্গীকার নিয়ে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হয়।
ইশতেহার ঘোষণার সময় মো. নুর ইসলাম বলেন, খাগড়াছড়িকে একটি শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতিপূর্ণ ও টেকসই উন্নয়নের মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য। পাহাড়ি ও বাঙালি—সব জনগোষ্ঠীর সহাবস্থানের ভিত্তিতে মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও সমঅধিকারের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করাই ইনসানিয়াত বিপ্লবের দর্শন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির অবাস্তবায়িত ধারাগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। পাহাড়ে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠীর জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণমূলক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আধুনিক হিমাগার স্থাপন, ফল ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা এবং প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ ব্যবস্থার কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানান প্রার্থী নুর ইসলাম।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রতিটি উপজেলায় আইটি ও কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন, যুবসমাজকে দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করা হয়। একই সঙ্গে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
ইশতেহারে অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। সাজেকসহ দুর্গম এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন কেন্দ্র আধুনিকায়ন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতকরণ এবং খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালকে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন হাসপাতালে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বলেন, এই ইশতেহার পাহাড়ি জনপদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের রূপরেখা তুলে ধরেছে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নেতারা খাগড়াছড়ির সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন