
ঢালিউড চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার শেষ নেই। কখনো পোশাক, কখনো চলাফেরা, আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও—সব মিলিয়ে তাঁকে নিয়ে নেটিজেনদের কৌতূহল তুঙ্গে। এরই মধ্যে জোরালো গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তিনি নাকি দ্বিতীয়বারের মতো মা হতে চলেছেন। তবে এসব গুঞ্জনের বিষয়ে বরাবরের মতোই নীরব অবস্থান বজায় রেখেছেন এই অভিনেত্রী।
গত বছর ছেলে শেহজাদ খান বীরকে নিয়ে ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন বুবলী। সে সময় তাঁদের ঘনিষ্ঠ ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন তিনি। এরপর দেশে ফিরে শাকিব খান ও বুবলী নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে নামতে পারেননি বুবলী। সাম্প্রতিক সময়ে যেকোনো অনুষ্ঠানে বা প্রকাশ্যে তাঁকে দেখলেই নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়।
এই গুঞ্জন প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও বুবলী ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি জানান, এসব বিষয় নিয়ে আলাদা সময় ও উপলক্ষ থাকা উচিত। তাঁর এই সংযত ও রহস্যময় জবাবেই যেন গুঞ্জন আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, নেতিবাচক মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ কীভাবে সামলান—সে বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন শবনম বুবলী। এ প্রসঙ্গে তিনি তাঁর জীবনের একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ও আইডল হিসেবে তুলে ধরেন শাকিব খানকে।
বুবলী বলেন, “শাকিব খান যেহেতু পরিবারের মানুষ, তাঁর কারণেই চলচ্চিত্র অঙ্গনে আমার পথচলা শুরু। তাই তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখা হয়েছে। তিনি সব সময় বলেন—সব প্রশ্নের উত্তর দিতে নেই। তোমার কাজটাই তোমার প্রশ্নের জবাব হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকে হিংসা থেকে কথা বলেন, অনেকে হতাশা থেকে। এই পথচলায় অনেক বাধা ও প্রতিবন্ধকতা আসবে। সবকিছুর উত্তর দিতে গেলে কাজটাই করা হবে না। তাই এসব এড়িয়ে চলাটাই সবচেয়ে ভালো।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তা, গুজব ছড়ানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরির প্রসঙ্গে বুবলী বলেন, বর্তমানে ভিউ–ব্যবসা একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিবাচক কিছু বললে ভিউ হয় না বলেই অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচকতার আশ্রয় নেয়। যত বেশি মিথ্যা বলা যায়, যত বেশি গুজব ছড়ানো যায় বা এআই ভিডিও বানানো যায়—ততই ভিউ বাড়ে।
তিনি মনে করেন, এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ও সামাজিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ, একেবারে উপেক্ষা করতে করতে একসময় এসব বিষয় ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।
এর আগে এক অনুষ্ঠানে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বুবলী বলেন, “ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মানুষের কৌতূহল থাকবেই, আমি সেটাকে সম্মান করি। তবে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য আলাদা সময় ও উপলক্ষ থাকা দরকার।”
এই বক্তব্যের পর থেকেই সমালোচকেরা বুবলীর কথার মধ্যে ভিন্ন অর্থ খোঁজার চেষ্টা করছেন। তবে সব জল্পনা-কল্পনার মাঝেও শবনম বুবলী স্পষ্ট করে দিয়েছেন—সব প্রশ্নের উত্তর শব্দে নয়, কাজ দিয়েই দেওয়া উচিত।
মন্তব্য করুন