
ক্যারিয়ারজুড়ে একের পর এক চোটে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। প্যারিস সাঁ জার্মেই থেকে আল হিলাল, এরপর শৈশবের ক্লাব সান্তোস—কোথাও যেন চোট তাকে পিছু ছাড়েনি। এমনকি সবশেষ গুরুতর হাঁটুর চোটের পর ফুটবল থেকেই অবসর নেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে এসিএল ও মেনিস্কাসে গুরুতর চোট পান নেইমার। দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে মাঠে ফিরলেও আর কখনোই পুরোপুরি ফিট হতে পারেননি তিনি। আল হিলালে যোগ দেওয়ার পর একের পর এক ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হয় দীর্ঘ সময়। বিশ্বকাপের লক্ষ্যে নিজেকে নতুন করে গড়ার আশায় সান্তোসে ফিরলেও সেখানেও চোট তাকে ছাড়েনি। তবে চোট নিয়েই মাঠে নেমে সান্তোসকে অবনমন থেকে রক্ষা করেন নেইমার।
সম্প্রতি এক ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমারের বাবা ও এজেন্ট নেইমার দা সিলভা সান্তোস সিনিয়র জানান, মেনিস্কাসের চোটের খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন তাঁর ছেলে।
নেইমারের বাবার ভাষায়, “আমি বাসায় গিয়ে ওকে জিজ্ঞেস করি—এখন কেমন আছো? তখন নেইমার বলে, ‘আমি আর নিতে পারছি না। অস্ত্রোপচার করাই। বাবা, জানি না এটা কাজ করবে কিনা। অনেক হয়েছে।’”
তবে হাল ছাড়তে দেননি বাবা। তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম, তুমি যদি অস্ত্রোপচার করাও, আমরা সেরে ওঠার দিকেই মন দেব। তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে, আমি তোমার পাশে আছি।”
এই কথাগুলোই নাকি নতুন করে সাহস জোগায় নেইমারকে। পরদিনই অনুশীলনে নেমে বাঁ ও ডান পায়ে শট নিতে শুরু করেন তিনি। এরপর বলেন, “আমার মনে হয়, আমি এটা পারব।” এরপর মাঠে ফিরে গোলও করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করান নেইমার। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকেই মাঠে ফেরার আশা করা হচ্ছে তাঁর। সামনে বড় লক্ষ্য—২০২৬ বিশ্বকাপ। কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল দলে নিজের জায়গা ফেরানোই এখন নেইমারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করে ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আছেন নেইমার জুনিয়র—আর এই লড়াইই প্রমাণ করে, তিনি এখনো হার মানেননি।
মন্তব্য করুন