
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম জানিয়েছেন, রায়ের বাজার কবরস্থানে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আটজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত অনেকের মরদেহ অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে রায়ের বাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। এসব মরদেহের মধ্যে ১১৪ জন শহীদের কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ৯টি পরিবারের দেওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে ইতোমধ্যে আটজন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকায় রায়ের বাজার কবরস্থানসংক্রান্ত সিআইডি আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহ পরিচয় শনাক্তকরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সোহেল রানার মা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী।
উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, এই সংবেদনশীল ও জটিল কাজটি সম্পন্ন করতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। বিশিষ্ট ফরেনসিক বিজ্ঞানী ড. মরিস টিডবল বিনজ বাংলাদেশে এসে সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিক্যাল ফরেনসিক টিমকে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেন। পরবর্তীতে ইউএনএইচসিআরের সহায়তায় ড. লুইস ফন্ডিব্রিডারের নেতৃত্বে পরিচালিত কার্যক্রমে মিনেসোটা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, কবর থেকে ১১৪টি মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের মতো সংবেদনশীল কাজ অত্যন্ত সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।
ফারুক ই আজম বলেন, এই শনাক্তকরণের মাধ্যমে শহীদদের পরিবারগুলো অন্তত জানতে পারছেন তাদের প্রিয়জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে এবং তারা কোথায় শায়িত আছেন। এটি পরিবারগুলোর পাশাপাশি জাতির জন্যও এক ধরনের মানসিক স্বস্তি। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়া আইন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রতি রাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং ভবিষ্যৎ বিচারিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, যদিও এখনো কিছু শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা বাকি রয়েছে, তবে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং সব শহীদকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠান শেষে শনাক্তকৃত শহীদদের কবর তাদের নিকটাত্মীয়দের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শহীদদের স্মরণে কবরস্থানে নামফলকের উদ্বোধন, গাছের চারা রোপণ এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন