
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর ঘটনায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনাটি কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে অবমাননার উদ্দেশ্যে নয়; বরং নির্বাচনী মাঠে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ থেকেই তিনি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন। রুমিন ফারহানা জানান, ইতোমধ্যে তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কাছেও তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, “আমি লিখিত জবাব দিয়েছি এবং আজ নির্বাচন কমিশনেও একটি ব্যাখ্যা নিয়ে এসেছি। বাস্তবতা হলো—এই মুহূর্তে আমার থাকার কথা নির্বাচনী মাঠে, ঢাকায় নয়। কিন্তু বাধ্য হয়েই আমাকে আসতে হয়েছে। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রশাসন ও পুলিশের যে মাত্রার নিরপেক্ষতা থাকা উচিত, সেটি আমরা মাঠে পাচ্ছি না।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, তার নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে জড়িত কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আমার কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে, মারধর করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, মাথা ফাটানো হয়েছে, এমনকি কোথাও কোথাও আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু এসব ঘটনার পরও এখন পর্যন্ত একটি মামলাও হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচন করছি। এই অবস্থায় প্রশাসন যদি একেবারে কঠোরভাবে নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। অতীতে আমরা দেখেছি ২০১৮ সালের নির্বাচন কিংবা ৫ আগস্টের মতো পরিস্থিতি। যদি আবার তেমন কিছু ঘটে, তাহলে তার পরিণতি কারও জন্যই ভালো হবে না—দেশের জন্যও না।”
রুমিন ফারহানা জানান, এসব বিষয় অবহিত করতেই তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে এসেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কমিশন মাঠ প্রশাসনকে আরও নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেবে।
তিনি আরও বলেন, “আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গেও আমার বৈঠক রয়েছে। আমি তাদের কাছেও এই বিষয়গুলো তুলে ধরব, যাতে আন্তর্জাতিক মহল বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকে।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই—বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কারচুপির খেলা খেলার সাহস যেন কোনো রাজনৈতিক দল না দেখায়। এই দেশের মানুষ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ১৫ বছর ধরে লড়াই করেছে।”
তিনি বলেন, “আমরা যে যে রাজনৈতিক দলে ছিলাম, নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাই সংগ্রাম করেছি। তাই আরেকটি কারচুপির নির্বাচন, আরেকটি ম্যানিপুলেটেড ইলেকশন বাংলাদেশে হতে দেওয়া হবে না—ইনশাল্লাহ।”
রুমিন ফারহানার এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, অন্যদিকে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তার তোলা প্রশ্ন—সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন