
ঢাকার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অমর একুশে বইমেলাকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বইমেলায় রূপ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলা একাডেমির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল আয়োজন অমর একুশে বইমেলা। তবে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বছরগুলোতে এটি আন্তর্জাতিক বইমেলা হিসেবে আয়োজনের সুযোগ আছে কি না—সেটি ভেবে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা অনুষ্ঠিত হলে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে মাতৃভাষার পাশাপাশি একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘ-এর দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে একুশ এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলা একাডেমি ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে পথচলা করছে।
তিনি বলেন, অমর একুশে বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার আয়োজন নয়; এটি শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। বইমেলাকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, সঙ্গীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা নতুন প্রজন্মের মেধা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দেন, অমর একুশে বইমেলাকে কেবল নির্দিষ্ট মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রকাশকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
তিনি বলেন, প্রতি বছর বইমেলার পরিসর বাড়লেও গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। বই পড়া মানুষের মেধা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়মিত বই পড়া মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলা একাডেমির উদ্যোগে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাহিত্য বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনুবাদের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও দৃঢ় হবে।
মন্তব্য করুন