
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিনের পক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান, রাজনৈতিক লক্ষ্য ও এলাকার উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরাই ছিল এই সভার মূল উদ্দেশ্য।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় লুৎফর রহমান মতিনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরু।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, ১৩৩ টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল আসন। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার জনগণ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়নে কার্যকর ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। বক্তারা দাবি করেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন একজন পরীক্ষিত, জনসম্পৃক্ত ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, যিনি নির্বাচিত হলে কালিহাতীর সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
মোজাম্মেল হক হিরু বলেন, “বিএনপি সবসময় জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের রাজনীতি করে। লুৎফর রহমান মতিন সেই আদর্শের একজন প্রতিনিধি। তিনি মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝেন এবং এলাকার প্রতিটি সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।” তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাদের বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়। এ সময় এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা, সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুব সমাজের কর্মসংস্থান, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
সাংবাদিকরা তাদের বক্তব্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রথম শর্ত। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।
মতবিনিময় সভা শেষে উপস্থিত সবাই একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে কালিহাতীর মানুষ যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নিতে সক্ষম হবে।
মন্তব্য করুন