
জগন্নাথপুর মক্তব উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মক্তবের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে ক্বিরাত, গজল ও ইসলামী কুইজ প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে ইসলামী জ্ঞান, নৈতিকতা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহের সৃষ্টি করে।
আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টায় জগন্নাথপুর উপজেলার বাউধরণ মুজিব মার্কেট প্রাঙ্গণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথপুর মক্তব উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন রাজু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পঞ্চগ্রাম ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদের অর্থ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ আলম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন বেলাল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,
“মক্তব শিক্ষা কেবল ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি নৈতিকতা, শিষ্টাচার ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের সঠিক শিক্ষায় গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউধরণ গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি ও সাবেক ইউপি সদস্য হাজী আশিকুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহজাহান মিয়া, শিক্ষানুরাগী জুবায়ের হোসেন, মাওলানা আবু সাইদ লতিফী, যোবায়ের আহমদ, আব্দুল মজিদ ও আবদুল্লাহ আল মামুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাজী আশিকুর রহমান বলেন,
“এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিশুদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং ইসলামী শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ ও ভালোবাসা তৈরি করে। নিয়মিত এমন আয়োজন হলে নৈতিক অবক্ষয় থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে ক্বিরাত, গজল ও ইসলামী কুইজ—এই তিনটি বিভাগে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন যোবায়ের আহমদ, আব্দুল মজিদ ও আবদুল্লাহ আল মামুন। তারা স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে রিয়াজ উদ্দিন রাজু বলেন,
“জগন্নাথপুর মক্তব উন্নয়ন ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও শিশুদের জন্য এমন গঠনমূলক ও শিক্ষামূলক আয়োজন অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস এবং অভিভাবকদের আনন্দে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়।
এ আয়োজন এলাকাবাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন ইসলামী সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম আয়োজনের দাবি জানান স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন