
পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার, যা মুসলিম বিশ্বে ‘জুমাতুল বিদা’ নামে পরিচিত, তার ফজিলত ও গুরুত্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। তিনি বলেন, রমজানের বিদায়ী মুহূর্তে এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ।
২০ মার্চ পালিত এ বছরের জুমাতুল বিদা উপলক্ষে এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, রমজানের শেষ জুমা রোজাদারদের জন্য বিশেষভাবে আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির একটি সুযোগ। পুরো মাসজুড়ে যে সংযম, ত্যাগ ও ইবাদতের চর্চা করা হয়, তার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটে এই দিনে। তাই এ দিনটি যথাযথভাবে কাজে লাগানো প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, রমজানের মূল লক্ষ্য হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন। রোজার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে গুনাহ থেকে বিরত রাখতে শিখে। অথচ রমজানের বাইরে গিয়ে যদি কেউ আবার পাপাচারে লিপ্ত হয়, তবে তা রোজার প্রকৃত শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হওয়া। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশে হালাল খাবার থেকেও বিরত থাকতে পারে, সে কেন রমজানের পর হারাম কাজে লিপ্ত হবে?”
জুমার দিনের ফজিলত সম্পর্কে তিনি হাদিসের আলোকে বলেন, সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে জুমাবার সর্বাধিক মর্যাদাবান। এ দিনেই হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়, তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে পৃথিবীতে আগমন করেন। এমনকি কেয়ামতও সংঘটিত হবে এই দিনেই। ফলে জুমার দিনের গুরুত্ব ইসলামে অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, যখন আল্লাহর দরবারে বান্দার দোয়া কবুল হয়। তাই জুমাতুল বিদার মতো মহিমান্বিত দিনে বেশি বেশি দোয়া, ইবাদত ও তওবা করা উচিত। বিশেষ করে রমজানের শেষ সময়ে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত লাভের সুযোগ আরও বেশি থাকে।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, রমজানের শেষ শুক্রবারে হজরত সুলায়মান (আ.) জেরুজালেম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন এবং মুসলমানদের প্রথম কিবলা মসজিদ আল-আকসার ভিত্তি স্থাপন করেন। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ দিনটি ‘আল-কুদস দিবস’ হিসেবেও পালন করা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন মসজিদে জুমাতুল বিদায় বিশাল জামাতে মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন, যা এক ধরনের ঈমানি সমাবেশে পরিণত হয়। এ সময় সম্মিলিতভাবে দোয়া করা হলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।
পরিশেষে তিনি সকল মুসলমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুমাতুল বিদার এই পবিত্র দিনে বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া ও তওবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। মহান আল্লাহ যেন সকলের গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং আমাদেরকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করেন—এমন কামনাও ব্যক্ত করেন তিনি।
মন্তব্য করুন