
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগে বড় ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট দল। অভিজ্ঞ ব্যাটার অ্যারন জোন্সকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। দুর্নীতিবিরোধী বিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ ওঠায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে তাকে।
আইসিসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, অ্যারন জোন্সের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় বিধিভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তাকে ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে এবং তদন্ত চলাকালীন তিনি কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া ক্রিকেট কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।
৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পে ছিলেন। ওই ক্যাম্পে থাকা ১৮ জন ক্রিকেটারের মধ্য থেকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত ১৫ সদস্যের দল ঘোষণার কথা ছিল। তবে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কারণে আপাতত বিশ্বকাপ দলে অ্যারন জোন্সের থাকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আইসিসির তথ্যমতে, জোন্সের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই ২০২৩–২৪ মৌসুমে বার্বাডোজে অনুষ্ঠিত বিম-১০ (Bim10) টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে। এই টুর্নামেন্টটি ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লিউআই) অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংক্রান্ত আরও দুটি অভিযোগ রয়েছে, যা আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী কোডের আওতাভুক্ত।
আইসিসি আরও জানায়, এই বিষয়টি একটি বৃহত্তর তদন্তের অংশ এবং তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তি বা পক্ষের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হতে পারে।
২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর অ্যারন জোন্স যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ৫২টি ওয়ানডে ও ৪৮টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও তিনি নিয়মিত মুখ—ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল), বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে (এমএলসি) খেলেছেন এই ব্যাটার।
বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের ঠিক আগে অ্যারন জোন্সের সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে যুক্তরাষ্ট্র দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের ওপরই এখন নির্ভর করছে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ।
মন্তব্য করুন