
আগামীকাল শনিবার থেকে পর্দা উঠছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের। সবকিছু ঠিক থাকলে বাংলাদেশ দলের থাকার কথা ছিল কলকাতায়। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে আজ সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লিটন দাস, প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বা দলের অন্য কেউ উপস্থিত থাকতেন। কিন্তু উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ।
টি-টোয়েন্টি—যে সংস্করণটি একসময় বাংলাদেশের জন্য ছিল দুর্বলতার জায়গা—সেই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটেই গত বছর দারুণ পারফরম্যান্স করেছে টাইগাররা। ৩০ ম্যাচ খেলে জিতেছে ১৫টি, হেরেছে ১৪টি, আর একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে। আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিতেছে সিরিজ। ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার মঈন আলীর মতে, এবারের বিশ্বকাপে খেলতে পারলে বাংলাদেশ দারুণ কিছু করে দেখাতে পারত।
সূচি অনুযায়ী কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচ। মিরপুরের স্পিনবান্ধব উইকেটে অভ্যস্ত বাংলাদেশের জন্য ইডেন গার্ডেনসের কন্ডিশনও সহায়ক হতো বলে মনে করা হচ্ছিল। ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে মঈন বলেন, “বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলা দুঃখজনক। আমার মতে তারা এই বিশ্বকাপে ভালো করত। দলটিও দারুণ ছিল।”
গত ৩ জানুয়ারি আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। পরদিনই (৪ জানুয়ারি) ভারতে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকার বাংলাদেশ দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়নি। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহার মেনে নিতে পারছেন না মঈন। তিনি বলেন,
“রাজনৈতিক ব্যাপারগুলো অনেক দিন ধরেই চলছে। আশা করি সামনে সমাধান আসবে। কারণ, সেরা দলগুলোকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখতে চাই। কোনো দল সরে গেলে সেটা দুঃখজনক।”
২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন সূচি প্রকাশ করে আইসিসি। সেদিনই পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি দাবি করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। ২৬ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিশ্বকাপ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকারের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও জানান, বাংলাদেশের সমর্থনে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান খেলতে যাবে না। ক্রিকেটে রাজনীতির প্রভাব দেখে হতাশ মঈন আলী। তিনি বলেন, “অনেক দেশে এগুলো বড় ইস্যু। বড় ঘটনাও ঘটতে পারে। আশা করি ২–৩ বছরের মধ্যে সমাধান হবে। এখন আর কিছু করার নেই।”
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে স্কটল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ইতালি, ইংল্যান্ড, নেপাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে স্কটিশরা। ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি একই ভেন্যুতে ইতালি ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে নেপালের বিপক্ষে।
মন্তব্য করুন