
এএফসি এশিয়ান কাপে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়া নারী ফুটবল দল–এর বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ম্যাচটিতে ৫-০ গোলের পরাজয় বাংলাদেশের শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। তবে দলের ফুটবলাররা এখনও পরবর্তী ম্যাচকে সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছেন।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জাতীয় দলের মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তার কথা স্বীকার করেন। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা এই ফুটবলার বলেন, খেলতে নেমেই বোঝা গেছে উত্তর কোরিয়ার দলটি অনেক সংগঠিত ও শক্তিশালী। তাদের দৌড়, বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং ও আক্রমণভাগের গতি—সবকিছুই ছিল অত্যন্ত উন্নত মানের।
স্বপ্না রানীর ভাষায়, ম্যাচের ভেতরেই প্রতিপক্ষের ট্যাকটিকস ও বলের নিখুঁত ব্যবহার চোখে পড়েছে। ওভারটেকিং, রানিং এবং পাসিংয়ে তারা এগিয়ে ছিল বলেই ম্যাচে প্রাধান্য ধরে রাখতে পেরেছে।
ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের লক্ষ্য ছিল ভালো পারফরম্যান্স দেখানো। দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার যেমন বলেছেন, দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতি ছিল না। একই সুরে কথা বলেন স্বপ্না রানীও। তিনি জানান, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে নেমে বাংলাদেশের হারানোর তেমন কিছু ছিল না। তাই খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন ছিল। তবুও দল চেষ্টা চালিয়ে গেছে। তার মতে, এদিনের ফলাফলকে কিছুটা দুর্ভাগ্য হিসেবেও দেখছেন তারা।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ উজবেকিস্তান নারী ফুটবল দল–এর বিপক্ষে। এই ম্যাচে জয় পেলে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ আটে ওঠার গাণিতিক সম্ভাবনা টিকে থাকতে পারে। তাই পরবর্তী ম্যাচকে ঘিরে নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে দল।
স্বপ্না রানী বলেন, খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিটি পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই তাদের দায়িত্ব। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করে মাঠে নামতে চান তারা।
এর আগে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে চীন নারী ফুটবল দল–এর কাছে ২-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ব্যবধান আরও বড় হয়ে যায়। এই পরাজয় অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হলেও স্বপ্না রানী বলেন, ম্যাচের সময় তীব্র গরম এবং টানা পরিশ্রমের কারণে খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা ক্লান্তি দেখা দিয়েছিল।
তিনি আরও জানান, শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ভালো করতে হলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের আরও বেশি দৌড়াতে হবে, শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং ম্যান-টু-ম্যান লড়াইয়ে আরও দৃঢ় হতে হবে। ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে মাঠে ফেরার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন এই মিডফিল্ডার।
মন্তব্য করুন