
সুন্দরবনের সংরক্ষিত ও প্রবেশ নিষিদ্ধ অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে একটি নৌকাসহ তিন জেলেকে আটক করেছে বন বিভাগ। পরে তাদের বিরুদ্ধে বন আইন, ১৯২৭ অনুযায়ী মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতের দিকে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন পুষ্পকাটি অভয়ারণ্যের মাইটের চরের খাল এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় অভয়ারণ্য এলাকার ভেতরে নিষিদ্ধভাবে মাছ ধরার কাজে লিপ্ত অবস্থায় একটি নৌকাসহ তিন জেলেকে আটক করা হয়। পরদিন বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে তাদের সাতক্ষীরা বন আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আটক জেলেরা হলেন—খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার পাথরখালী গ্রামের আজিবর সানার ছেলে আসাদুল সানা (৩৫), একই গ্রামের সামছুলর গাইনের ছেলে মিকানুর গাইন (৩৪) এবং সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার সেন্ট্রাল কালিনগর গ্রামের আব্দুল করিম গাজীর ছেলে নাজিরুল গাজী (২৪)।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জার মোঃ ফজলুল হক জানান, সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও অভয়ারণ্য এলাকায় যেকোনো ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব এলাকায় বন্যপ্রাণী, জলজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে সরকার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আইন অমান্য করে কেউ এসব এলাকায় প্রবেশ বা সম্পদ আহরণ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন শুধু দেশের নয়, বিশ্ব ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগ নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে অভয়ারণ্য এলাকাগুলোতে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাছ ধরা ও বনজ সম্পদ আহরণ রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
বন বিভাগ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরা ও বনজ সম্পদ আহরণের প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণে বন বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন করা হচ্ছে, যাতে তারা আইন মেনে জীবিকা নির্বাহ করে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সহযোগিতা করে।
স্থানীয় পরিবেশবিদদের মতে, অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ধরা বন্ধ না হলে জলজ প্রাণীর প্রজনন ও বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সুন্দরবন রক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলেতারা মনে করেন।
মন্তব্য করুন