নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রকল্পের আওতায় অনুদানের ৬০টি বকনা গরু বিতরণ নিয়ে গুরুতর অনিয়ম, তথ্য গোপন ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটি কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন দেখানো হলেও প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে গরু পৌঁছেনি, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২ হাজার ৮১২ জন। “দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (জেলে) মধ্যে ৬০টি বকনা গরু ও খাদ্য সহায়তা বিতরণের কথা রয়েছে। কিন্তু এই গরুগুলো কারা পেয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, লোহাগড়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাসুম খান প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে অনীহা দেখিয়েছেন। উপকারভোগীদের তালিকা, বিতরণ সংক্রান্ত নথিপত্র বা গ্রহণপত্র চাওয়া হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়েই দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সন্দেহ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হলেও প্রকৃত জেলেদের মধ্যে গরু বিতরণ করা হয়নি। অনেকেই এটিকে পরিকল্পিত দুর্নীতি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, কাগজে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে, যা তদন্তের দাবি রাখে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. মাসুম খান বলেন, “৬০টি বকনা গরু জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তবে আমার কাছে কোনো তালিকা নেই। তালিকা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। আমি আপনাদের কোনো তালিকা দিতে পারব না।” তার এমন বক্তব্যে বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।
এদিকে নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আপনাদের কাছ থেকে জানতে পারলাম। সাধারণত এ ধরনের তালিকা সংশ্লিষ্ট উপজেলা অফিসেই সংরক্ষিত থাকে। কেন তালিকা দেওয়া হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করতে পারে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন