
শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেমেছে এক ভিন্নধর্মী নীরবতা ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। শিশিরভেজা ঘাস, হালকা ঠান্ডা হাওয়া এবং কুয়াশাচ্ছন্ন প্রান্তর শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনকে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই কুয়াশা ও ঠান্ডা আবহাওয়া ক্যাম্পাসকে পরিণত করেছে এক প্রশান্তিময় প্রাঙ্গণে, যা শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয়।
ভোরের কুয়াশায় ঢাকা একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল এবং সবুজ প্রান্তর যেন প্রকৃতির নীরব কবিতায় মিলিয়ে গেছে। লেকপাড়, শহীদ মিনার এলাকা ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে খোলা মাঠে দেখা যায় শীতের বিশেষ উপস্থিতি, যা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যকে আরও জীবন্ত করে তোলে। শিক্ষার্থীরা সকালে হাঁটাহাঁটি করেন, পুকুরপাড়ে বসে পড়াশোনা করেন বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মগ্ন হন। এই সময়ে চায়ের স্টলগুলোও শিক্ষার্থীদের আড্ডার জন্য মুখরিত থাকে, এবং ক্লাসে উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পায়।
শীতকাল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই নয়, এটি শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও যোগ করে এক বিশেষ মাত্রা। ক্যাম্পাসে পিকনিক, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়, যা শিক্ষার্থীদের একঘেয়েমি কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে প্রেরণা যোগায়। অন্যদিকে, অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষার্থীরা মানবিক কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করেন, যা তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় বহন করে।
দর্শনার্থী নুজহাত জাহান বলেন, “শীতের সকালে প্রথমবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে আমি অভিভূত। চারপাশের কুয়াশা, ঠান্ডা বাতাস এবং সবুজ গাছপালা শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে নিয়ে এসেছে। শীতের নরম রোদ ক্যাম্পাসটিকে আরও সুন্দর করে তুলেছে। এটি শুধু দেখার নয়, অনুভব করার মতো অভিজ্ঞতা।”
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী বিপ্রজিৎ হালদার জানান, “শীতকাল আমার সবচেয়ে প্রিয় সময়। সকালে ক্যাম্পাসে হাঁটাহাঁটি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এবং প্রকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে পড়াশোনা—সবই এই সময়ে আরও আনন্দদায়ক। এটি শুধু পড়াশোনার নয়, মানসিক প্রশান্তিরও সময়।”
সার্বিকভাবে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকাল কেবল একটি ঋতুর নাম নয়; এটি প্রকৃতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক সুন্দর মিলনমেলা। শীতের এই সময় শিক্ষার্থীদের জীবনে রাখে প্রশান্তি, বন্ধন এবং স্মৃতির উষ্ণতা, যা তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং এগিয়ে যেতে নতুন প্রেরণা জোগায়।
মন্তব্য করুন