
শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, নরম রোদ আর তার মাঝে হলুদ-কমলা রঙের গাঁদা ফুলে যেন নতুন সাজে সেজেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ক্যাম্পাস। মূল প্রবেশপথ থেকে শুরু করে একাডেমিক ভবনের সামনে, লেকের পাড়, খোলা মাঠ, প্রশাসনিক এলাকা ও আবাসিক হলগুলোর চারপাশ—সবখানেই চোখে পড়ছে সারি সারি গাঁদা ফুলের সমারোহ। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোরম ও প্রাণবন্ত পরিবেশ, যা প্রতিদিনই আকর্ষণ করছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ক্যাম্পাস সৌন্দর্য বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এই ফুলের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট, উপাচার্যের বাংলো, প্রশাসন ভবন, অদম্য বাংলা চত্বর, একাডেমিক ভবনসমূহ এবং প্রতিটি আবাসিক হলের সামনে গাঁদা ফুলের গাছ রোপণ করা হয়। শীত মৌসুমে ফুলগুলো একসঙ্গে ফুটে ওঠায় ক্যাম্পাস যেন রঙিন এক উৎসবে পরিণত হয়েছে। সবুজ গাছপালার সঙ্গে গাঁদা ফুলের উজ্জ্বল রঙ মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অনন্য নান্দনিক দৃশ্য।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার প্রধান মোহাম্মদ আলী বলেন,
“ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা প্রায় তিন হাজার গাঁদা ফুলের গাছ রোপণ করেছি। প্রতিদিন নিয়মিত পানি সেচ, সময়মতো সার প্রয়োগ এবং পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগে প্রশাসন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আমাদের লক্ষ্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলা।”
ক্যাম্পাসের এই রঙিন পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মাঝেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস শেষে কিংবা অবসর সময়ে ফুলে ঘেরা পথ ধরে হাঁটছেন, ছবি তুলছেন এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফি বলেন,
“ক্লাস আর পরীক্ষার চাপের মধ্যে এই ফুলের বাগান আমাদের জন্য এক ধরনের মানসিক স্বস্তি। একটু হাঁটলেই মনটা ভালো হয়ে যায়, ক্লান্তি দূর হয়। এমন পরিবেশ পড়াশোনার মনোযোগ বাড়াতেও সাহায্য করে। ভবিষ্যতে যদি আরও বৈচিত্র্যময় ফুল, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হয়, তাহলে আমাদের ক্যাম্পাস আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।”
শিক্ষকদের অনেকেই মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য ও সবুজ পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য শুধু চোখের আরামই নয়, বরং সৃজনশীলতা ও ইতিবাচক চিন্তাকেও উত্সাহিত করে। এ কারণে ক্যাম্পাসজুড়ে ফুল ও গাছপালার এই সমন্বয়কে তারা অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য আগে থেকেই পরিচিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় গাঁদা ফুলের এই সৌন্দর্যে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। শীতের সকালে কুয়াশার ভেতর উজ্জ্বল ফুলের হাসি ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রাণচাঞ্চল্য। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই রঙিন আবহ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের দৈনন্দিন জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও আকর্ষণীয় ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষাঙ্গন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
মন্তব্য করুন