মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামে একই রাতে দুই সহোদর ভাইয়ের বাড়িতে সংঘটিত হয়েছে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। এ ঘটনায় ৫টি গরু ও ১টি খাসি ছাগল চুরি হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে বরিশাট নতুন পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বরিশাট নতুন পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিল বিশ্বাসের দুই ছেলে মাহবুব বিশ্বাস ও খবির বিশ্বাসের বাড়িতে একই সময়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে। প্রতিদিনের মতো রাতের বেলা গরুকে খাবার দিয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে বাইরে বের হয়ে মাহবুব বিশ্বাস তার গোয়ালঘরের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে ভিতরে গিয়ে দেখেন, তার দুটি গরুর একটিও নেই।
তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও কোথাও গরুগুলোর সন্ধান মেলেনি। এরই মধ্যে তিনি জানতে পারেন, তার ছোট ভাই খবির বিশ্বাসের গোয়ালঘর থেকেও ৩টি গরু ও ১টি খাসি ছাগল চুরি হয়েছে। এতে দুই ভাইয়ের মোট ৬টি গবাদিপশু চুরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত খবির বিশ্বাস জানান, তার চুরি যাওয়া ৩টি গরু ও ১টি খাসি ছাগলের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। অপরদিকে মাহবুব বিশ্বাস বলেন, তার ২টি গরুর বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। সবমিলিয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, অনেক কষ্টে ও ঋণ করে গরুগুলো লালন-পালন করছিলেন। সামনে কোরবানির ঈদে বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশায় ছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎ এমন চুরির ঘটনায় তাদের সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। বর্তমানে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন।
এ ঘটনার পর বরিশাট গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় খামারিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা রাতের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন এবং চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, সম্প্রতি এলাকায় গবাদিপশু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসনের আরও তৎপর হওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
মন্তব্য করুন