রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় গভীর রাতে এক কৃষকের মরিচের ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়নের ঝাড়পাড়া গ্রামে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আনোয়ার হোসেনের দাবি, তার ৩০ শতক জমির কাঁচা মরিচের চারায় বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করে পরিকল্পিতভাবে ক্ষতি সাধন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল সকালে প্রতিদিনের মতো জমি পরিদর্শনে গিয়ে আনোয়ার হোসেন দেখতে পান তার মরিচের ক্ষেতের অধিকাংশ চারাই ঝলসে গেছে। সবুজ ও সতেজ গাছগুলো রাতারাতি শুকিয়ে যাওয়ায় তিনি হতবাক হয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজনকে ডেকে বিষয়টি নিশ্চিত হন যে, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা রাতে জমিতে বিষনাশক ওষুধ ছিটিয়ে এ ক্ষতি করেছে।
আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি অনেক আশা নিয়ে চলতি মৌসুমে মরিচ চাষ করেছিলেন। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার ও পরিচর্যায় তার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে এ ধরনের নাশকতায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে তার পরিবারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঝাড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মতি নামের এক ব্যক্তি বলেন, “এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ অমানবিক। একজন পরিশ্রমী কৃষকের ফসল এভাবে নষ্ট করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুক।”
এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন বদরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কৃষি জমিতে নাশকতার ঘটনা তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা রাতের বেলা জমির নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদনে এ ধরনের হামলা শুধু একজন কৃষকের ক্ষতিই নয়, বরং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হতে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন