শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কর্ণঝোড়া সীমান্ত পর্যবেক্ষণ চৌকি (বিওপি) এলাকা দিয়ে বাগেরহাটের এক শিশুকে অবৈধভাবে পাচারের চেষ্টা চলাকালে দুই মানব পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ৯ বছর বয়সী লামিয়া আক্তার নামের শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া শিশুটি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মো. কামরুলের মেয়ে। ঘটনার পর রোববার দুপুরে গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
গ্রেপ্তাররা হলেন ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার উত্তর চৈগরি গ্রামের আব্দুর রেজ্জাক এবং শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বড়ইকুচি গ্রামের রিপন মিয়া।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, সীমান্তবর্তী সিংগাবরুনা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা বাবেলাকোনা ও হারিয়াকোনা দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার, মাদক ও অবৈধ পণ্য আনা–নেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১০৯৩ নম্বর সীমান্ত পিলার দিয়ে রাতের অন্ধকারে এসব অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি চৌকিদার আনোয়ার হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন এক ব্যক্তি একটি শিশুকে নিয়ে রিপনের বাড়িতে অবস্থান করছে এবং শিশুটি কান্নাকাটি করছিল। পরে শুক্রবার ওই বাড়ি থেকে রেজ্জাক ও শিশুটিকে ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা যায় শিশুটির মা দিল্লিতে থাকেন। বাবা মারা যাওয়ার পর মা আরেকটি বিয়ে করে সন্তানদের রেখে বিদেশে চলে যান। এ সুযোগে শিশুটিকে অবৈধভাবে বিদেশ পাঠানোর পরিকল্পনা চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর বিজিবি কর্ণঝোড়া বিওপি’র ইনচার্জ নায়েক সুবেদার সাইদুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে রোববার সকালে শিশুসহ তিনজনকে শ্রীবরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
শ্রীবরদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোরশেদ আলম জানান, শিশুটি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। আদালত এখনো শিশুটির অভিভাবকত্ব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়নি। শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে এবং দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন