রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে বুলু মিয়া (স্থানীয়ভাবে বুলুমিয়া নামে পরিচিত) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর নয়াপাড়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক বুলু মিয়া ওই গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে বুলু মিয়া বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে নিজ এলাকা ছাড়াও অন্যত্র নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পর্ক চলার পর ভুক্তভোগী তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্ত বুলু মিয়া তা এড়িয়ে যেতে শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, “আমি তাকে বিশ্বাস করে সম্পর্ক করেছি। সে বিয়ের কথা বলে বারবার আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। পরে আমি বিয়ের কথা বললে সে আমাকে অস্বীকার করে।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে তারা অভিযুক্তকে বিয়ের জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতেও সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বদরগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বুলু মিয়াকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করতে সক্ষম হয়।
বদরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনন্ত বর্মন জানান, “এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত বুলু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে রংপুর জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয়রা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সামগ্রিকভাবে এ ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা ও নির্যাতনের মতো অপরাধ সমাজে এখনও উদ্বেগজনকভাবে বিদ্যমান। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগের কঠোরতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন