মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি আবাসিক এলাকা থেকে বিরল প্রজাতির ‘হেলে সাপ’ (বাফ স্ট্রাইপড কিলব্যাক) উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) বিকেলে শহরতলীর সন্ধানী আবাসিক এলাকা থেকে সাপটি উদ্ধার করে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। পরে সেটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান-এ অবমুক্ত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর ইউনিয়নের সন্ধানী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক চেয়ারম্যান সোনা মিয়ার বাড়িতে হঠাৎ সাপটি দেখা গেলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজনও উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। পরে খবর দেওয়া হয় বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের কাছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ। তারা সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। উদ্ধারকাজ চলাকালে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও ভীতির মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
উদ্ধারকৃত সাপটির ইংরেজি নাম Buff-striped Keelback, স্থানীয়ভাবে যা ‘হেলে সাপ’ বা ‘ধানের সাপ’ নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Amphiesma stolatum। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সম্পূর্ণ নির্বিষ এবং অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের একটি সাপ। মানুষের জন্য এটি মোটেও ক্ষতিকর নয়; বরং এটি কৃষির জন্য উপকারী, কারণ এটি ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ছোট প্রাণী খেয়ে ফসল রক্ষা করতে সহায়তা করে।
উদ্ধারকারী দলের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, “সাপটি দেখতে অনেকের কাছে ভয়ঙ্কর মনে হলেও এটি একেবারেই নিরীহ। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত গিয়ে সেটিকে উদ্ধার করি এবং নিরাপদ স্থানে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।”
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কাজী নাজমুল হক জানান, সাপটিকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাতেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গহীন অরণ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের প্রাণীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লোকালয়ে সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা না করে বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়া উচিত।”
পরিবেশবিদরা বলছেন, নির্বিচারে সাপ নিধনের কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে ইঁদুর ও ক্ষতিকর পতঙ্গের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে সাপের সংখ্যা হ্রাস একটি বড় কারণ। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হলে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন