ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় সন্ত্রাসীদের হামলায় এক সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ মে) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মঈনুল হক লিপু দৈনিক দেশ রূপান্তর ও এটিএন নিউজের ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি এবং ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ওই এলাকায় অবস্থানকালে একদল সন্ত্রাসী হঠাৎ অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মঈনুল হক লিপুকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
আহত সাংবাদিক মঈনুল হক লিপু জানান, তার চাচাতো বোনের একটি পানির মোটর চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন, সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আছলাম হোসেনের ছেলে শান্ত (২৫), চুন্নু সিকদারের ছেলে রিজন সিকদার (২২), শাকিল সিকদারসহ ৭ থেকে ৮ জন তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে শান্ত পূর্বেও একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঝালকাঠি প্রেসক্লাব, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতি এবং কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ পৃথক বিবৃতিতে এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে রাজাপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহ আলম বলেন, অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করছেন তারা।
মন্তব্য করুন