
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পঙ্গু স্বামী ও তিন বছর বয়সী শিশুকন্যাকে ফেলে এক গৃহবধূ প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী রাজ্জাক শেখ (২৬) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা গ্রামে মামার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে খুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালী গ্রামের রহমান সরদারের মেয়ে রিম্পার (১৮) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
বিয়ের আগেই একটি সড়ক দুর্ঘটনায় রাজ্জাক শেখ তার একটি পা হারান। এরপর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তিনি।
রাজ্জাক শেখ অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ভ্যান চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় স্ত্রীর সঙ্গে স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়। বিকেলে বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন, তার স্ত্রী ঘরে নেই। পরে জানতে পারেন, তিনি কথিত প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। এ সময় ঘর থেকে প্রায় এক লাখ টাকাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, পরদিন শনিবার রিম্পা মোবাইল ফোনে তাকে জানায়, সে মুকসুদপুরে গিয়ে প্রেমিককে বিয়ে করেছে এবং আর ফিরে আসবে না। একই সঙ্গে ওই যুবক ফোনে নিজেকে রিম্পার স্বামী পরিচয় দিয়ে শিগগিরই তালাকের কাগজপত্র পাঠানোর কথাও জানায়।
রাজ্জাক শেখ বলেন, “আমাদের মধ্যে কখনো বড় ধরনের কোনো ঝগড়া হয়নি। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হলেও সংসার স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। আমি এখনো তাকে মেনে নিতে প্রস্তুত। আমাদের ছোট মেয়েটির ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমি আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে চাই।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে তাদের সন্তানটি তার মায়ের কাছে রয়েছে। শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে, রিম্পার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার বাবা রহমান সরদার বলেন, “আমি পরিবার নিয়ে খুলনায় থাকি। শুনেছি সে তার স্বামীর সঙ্গে কথা বলে চলে গেছে। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।”
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন