নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় নেশা ও মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের চান্দইল কামারপাড়া গ্রামে মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘বিডিও’র কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সংস্থার মৌসুমভিত্তিক ঋণের টাকা আদায়ের কাজে ওই এলাকায় গেলে নেশা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি তার গতিরোধ করে। প্রথমে তারা তাকে উদ্দেশ্য করে অশোভন আচরণ ও হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে মারধর করে। হামলাকারীরা তাকে ভবিষ্যতে নেশাবিরোধী সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ওই সাংবাদিক এলাকায় চলমান নেশা ব্যবসা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর থেকেই তিনি বিভিন্নভাবে হুমকির মুখে ছিলেন। সাম্প্রতিক হামলাকে তারা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নেশাজাতীয় দ্রব্যের অবাধ বিক্রি চললেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বাস্তবে নেশা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলেও তারা দাবি করেন।
সংশ্লিষ্ট মহল সতর্ক করে বলছে, এ ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নেশা ব্যবসায়ী ও নেশাগ্রস্তদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কাও রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকদ্রব্য উৎপাদন, পরিবহন ও বিক্রয় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পাশাপাশি এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। সে ক্ষেত্রে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
সাংবাদিক মহল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং একই সঙ্গে এলাকায় নেশা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন