বাগেরহাট জেলার এপ্রিল ২০২৬ মাসের শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোল্লাহাট থানার ওসি কাজী রমজানুল হক। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটনে বিশেষ অবদান রাখায় তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওসি কাজী রমজানুল হকের দক্ষ নেতৃত্বে মোল্লাহাট থানা পুলিশ গত কয়েক মাসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। তার তত্ত্বাবধানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার, অজ্ঞাতনামা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গুলিবিদ্ধ সংক্রান্ত মামলার আসামি আটকসহ নানা জটিল অপরাধের কার্যকর সমাধান সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও থানার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষ করে অপরাধপ্রবণ এলাকায় টহল জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশি সম্পর্ক উন্নয়নে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। এসব কার্যক্রমের ফলে মোল্লাহাট এলাকায় অপরাধের হার কমেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য এসব সাফল্য এবং পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এর আগে তিনি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে একাধিকবার কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন এবং পুরস্কার অর্জন করেছেন।
গত সোমবার (৪ মে) বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোঃ হাসান চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন। এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় ওসি কাজী রমজানুল হক বলেন, “এই অর্জন শুধু আমার ব্যক্তিগত নয়; এটি মোল্লাহাট থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আমরা সবাই মিলে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছি বলেই এই স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে।” তিনি ভবিষ্যতেও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এলাকায় অপরাধ দমনে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আস্থা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের স্বীকৃতি শুধু একজন কর্মকর্তার কাজের মূল্যায়নই নয়, বরং পুরো থানার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। এর ফলে তারা আরও আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত হবেন, যা সামগ্রিকভাবে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন